শনিবার, জুলাই ২১, ২০১২

লোক দেখানো মনিটরিং বলে দাবি করেছেনঃ সাধারণ ভোক্তারা

মুহাম্মাদ ইসরাফিল মোল্লাঃ
পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় বাড়বে না নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এমনটা বলছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাজার ঘুরে মিলছে ভিন্ন চিত্র। এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে ১৫জুলাই থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত পাঁচটি টিম নগরীর ১৭টি বাজার মনিটরিং শুরু করবে। তবে সাধারণ ভোক্তা এবং ব্যবসায়ী উভয়ই এটাকে ‘লোক দেখানো মনিটরিং’ বলে দাবি করেছেন। সাধারণ ভোক্তারা বলছেন,
ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত টিমের মাধ্যমে‘সাময়িক এই মনিটরিং’ সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কোন সুফল বয়ে আনবে কি না তা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। জানা গেছে, রমজানকে সামনে রেখে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে ভোগ্যপণ্যের দাম। একইসাথে ব্যর্থ হতে যাচ্ছে পণ্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা উদ্যোগ। এদিকে আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ ১ শতাংশ এবং খুচরা বিক্রেতারা ১০ শতাংশ মুনাফা করতে পারবেন বলে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা মানছেন না সরকারের এই নির্দেশনা। এমতাবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং কার্যক্রম শুরু করছে সরকার।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে ১৫ জুলাইথেকে চট্টগ্রামে বাজার মনিটরিং শুরু হবে। সকাল দশটায় মনিটরিং টিমের সদস্যরা সার্কিট হাউসে মিলিত হবেন। এরপর পাঁচটি টিমে ভাগ হয়ে মনিটরিং করবেন নগরীর ১৭টি বাজার। একইসাথে প্রতিটি উপজেলায়ও স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি মনিটরিং টিম কাজ করবে। প্রতিটি মনিটরিং টিমে ৮ থেকে

১০ জন করে সদস্য থাকবেন। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশন, বিএসটিআই,চেম্বার, ক্যাব, র‌্যাব, পুলিশ ও বাজার কমিটির প্রতিনিধির সমন্বয়ে এসব টিম গঠন করা হবে। টিমের সদস্যরা বিভিন্ন বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীদের পণ্য কেনার রশিদ, বাজারে মূল্য তালিকা টাঙ্গানো রয়েছে কী না তাও প্রত্যক্ষ করবেন।

১৪জুলাই বাজার পরিস্থিতি : নগরীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনে দেখা যায়, এখনো পর্যন্ত টাঙ্গানো হয় নি মূল্য তালিকা। একইসাথে ভোক্তাদের কাছ থেকে ইচ্ছেমত আদায় করা হচ্ছে পণ্যমূল্য। যদিও গত ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্ব স্ব সংগঠনের সদস্যদের মূল্য তালিকা টাঙ্গানোর বিষয়টি অবহিত করবেন বলা হয়েছিল। এসময় ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম আদায় করা হবে না বলে আশ্বস্থ করেছিলেন। একইসাথে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসকৃত পণ্যের আলোকে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে পণ্যমূল্য বাড়ার সুযোগ নেই।

১৪জুলাই বাজার পরিদর্শনে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি পণ্যের দামই বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকায়। যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা। তবে শুক্রবার পাইকারি বাজারে প্রতিমণ চিনি ২ হাজার ২০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৯শ ৫০ টাকায়। শুক্রবার প্রতি কেজি ইন্ডিয়ান পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪ টাকায়। গতকাল ২ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ২২ টাকায়। পাইকারি বাজারে পিঁয়াজের মূল্য ছিল ১৮ টাকা। তবে এক সপ্তাহ আগে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া রসুন এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৬ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া আদার মূল্য ছিল ৫২ থেকে ৫৬ টাকা। পাইকারি বাজারে আদার মূল্য ছিল ৪২ থেকে ৪৩ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া উন্নত মানের ছোলা গতকাল বিক্রি হচ্ছিল ৯০ টাকায়, মাঝারি এবং নিম্নমানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮৬ থেকে ৭৪ টাকায়। মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১৬ টাকায়, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়ে মটর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়, খেসারি বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকায়। পাইকারি বাজারে রায়পুরের মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়, ইন্ডিয়ান মরিচ ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়, কাচা দেশী হলুদ ৭০ টাকা, ইন্ডিয়ান হলুদ ৭৫ টাকা। ধনিয়া পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৬০ টাকা। বোতলজাত ৫ লিটার সয়াবিন তেল ৬শ ৬৫ টাকা, ২ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২শ ৬২ টাকা, ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১শ ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে (লিটার প্রতি) ১শ ২৪ টাকায়। এদিকে ডিমের দাম প্রতি হালিতে ২ থেকে ৩ টা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়।

অভিযোগ রয়েছে, বিপুল পরিমাণ মজুদ থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পন্থায় দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)‘র হিসাবে গত জুনের শেষ সপ্তাহে এর আগের সপ্তাহের তুলনায় নতুন করে দাম বেড়েছে ভোজ্যতেল সয়াবিন, পামঅয়েল,ডালের। এর মধ্যে ডালের দাম বেশ কিছুদিন ধরে বাড়তির দিকে। এছাড়া এক মাসে দাম বেড়েছে এমন পণ্যের তালিকায় রয়েছে লবণ,ডিম,ছোলা ও সব ধরনের সবজি। সম্প্রতি সরকারের এক নির্দেশনায় বলা হয়, আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ ১ শতাংশ এবং খুচরা বিক্রেতারা ১০ শতাংশ মুনাফা করতে পারবেন। এছাড়া গত ২৬ জুন বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ব্যবসায়ীরা সরকারকে আশ্বস্থ করেছিলেন ডাল, ছোলা, পিঁয়াজ, রসুনসহ কয়েকটি পণ্যে ১০ শতাংশের বেশি মুনাফা করবেন না।

সংশ্লিষ্টরা যা বলেন : অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এহছানে এলাহী বলেন- মনিটরিং টিম ভ্রাম্যমাণ আদলত নয়, তবে আদালতের ন্যায় কাজ করবে।

গত সোমবার বাজার মনিটরিং কমিটির সভায় চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেছিলেন, এবারের রমজানে পণ্যের কৃত্রিম সংকট হবে না। ব্যবসায়ীরা আন্তরিক হওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবার দামও অনেক কম। ব্যবসায়ীদের কাছে পণ্যের মজুদ আছে বলেই দাম কম।

কনজ্যুমার এসোসিয়েশন (ক্যাব) এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি নাজের হোসাইন বলেন,বর্তমান বাজার মূল্য নাগালের বাইরে। মনিটরিং টিমে ব্যবসায়ী প্রতিনিধির আধিক্যতা থাকায় সাফল্য কিছুটা বিঘ্নিত হতে পারে। কারণ যে মার্কেটে মনিটরিং টিম যাবেন ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা যদি আগে থেকে অন্য ব্যবসায়ীদের অবহিত করে দেন তাহলে মনিটরিং টিম পৌঁছার আগেই অসাধু ব্যবসায়ীরা সতর্ক হয়ে যাবেন।

খাতুনগঞ্জ হামিদ উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. নুরুল আলম জানান, এখনো পণ্যমূল্যের তালিকা টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয় নি। মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম¢ব নয়। এটা লোক দেখানো। দেশে যদি উৎপাদন বাড়ানো না যায় দ্রব্যমূল্য বাড়বেই।

কর্ণফুলী মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন জানান, এখনো পর্যন্ত আমাদের মার্কেটে দ্রব্যমূল্যের তালিকা টাঙ্গানো হয় নি। (১৫জুলাই শনিবার) সন্ধ্যায় এই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শাহরিয়ার পারভেজ শাকিল নামে জনৈক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, রমজান আসলে একমাস মনিটরিং লোক দেখানো। কারণ মনিটরিং হওয়া সত্ত্বেও প্রতি বছর রমজানেই বেড়ে যায় পণ্যমূল্য।
প্রথমদিনের বাজার মনিটরিং।
অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই শেষ হলো প্রথমদিনের বাজার মনিটরিং। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত ৫টি টিম গতকাল নগরীর বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করে। এসময় বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ীদের নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলেও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু সতর্ক করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখা এবং বাজারের বিভিন্ন অনিয়ম রোধ করার জন্য বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ এ মনিটরিংয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গতকাল নগরীর বিবির হাট, কর্ণফুলী মার্কেট,কাজীর দেউরী বাজার, স্টিল মিল বাজার, রেয়াজুদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করেন মনিটরিং দল। এসব বাজারে মূল্য তালিকা টাঙানো, বাজারের সামনে অভিযোগ বাক্স রাখা, পাইকারি বিক্রেতাদের দেওয়া রসিদ, খুচরা মূল্যে পার্থক্য ইত্যাদি বিষয় খতিয়ে দেখেন মনিটরিং টিম। এসময় বিভিন্ন বাজারে নানা অনিয়ম পাওয়া গেলেও প্রথম দিন হিসেবে ব্যবসায়ীদের শুধু সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদের মাত্রাতিরিক্ত লাভ, ওজনে কম দেওয়া, ভেজাল ও ফরমালিন বা কার্বাইডযুক্ত খাদ্যপণ্য বিক্রি না করতে সতর্ক করা হয়।

মনিটরিং টিমের সদস্য এবং উন্নয়ন কর্মী পারভীন আক্তার জানান, পরিদর্শনকালে দেখা যায় চকবাজার এবং রিয়াজুদ্দিন বাজারে মূল্য তালিকা টাঙ্গানো হয় নি। চিনিসহ কয়েকটি পণ্যের মূল্য একেক বাজারের একেক রকম। চকবাজারে এক বিক্রেতার নিকট চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রদত্ত একটিমাত্র খাসী জবাইয়ের রশিদ থাকলেও তিনি বিক্রি করছিলেন তিনটি খাসীর মাংস। অবশিষ্ট দু’টি খাসী‘র বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ওই মাংস বিক্রেতা। অবশিষ্ট

খাসী দুটি মৃতও হতে পারে। এসময় ম্যাজিস্ট্রেট ওই মাংস বিক্রেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু সতর্ক করে দেন। পারভীন আক্তার রমজান ছাড়াও সারা বছর মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল আরিফ জানান, প্রথম দিন বিক্রেতারা তাদের পণ্যের ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য তালিকা সঙ্গে রেখেছেন কিনা তা পরীক্ষা করেছি। এছাড়া তারা পণ্য বিক্রয়ের সময় ক্রেতাদের তা দেখাচ্ছেন কিনা তাও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই পণ্যমূল্য তালিকা নেই। তবে ভবিষ্যতে তালিকা না থাকলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা টাস্কফোর্স কমিটি, বাজার মনিটরিং কমিটি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় সিদ্ধান্ত হয় রমজান উপলক্ষে সপ্তাহে দুদিন নগরীর ১৭ টি বাজার মনিটরিং করা হবে। গতকাল মনিটরিং টিমে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), চট্টগাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডস্ট্রি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব), চট্টগ্রাম নগর পুলিশ (সিএমপি), বাজার কমিটির প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ আর নেই।

জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ আর নেই। বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১ টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি....রাজেউন।)

হুমায়ূন আহমেদ: কুতুবপুর থেকে নিউইয়র্ক
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর। এক শীতের রাতে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জের কুতুবপুর গ্রামে হুমায়ূন আহমেদের জন্ম। ডাক নাম কাজল। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি।

বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, আর মা ছিলেন গৃহিনী। তিন ভাই দুই বোনের মাঝে তিনি সবার বড়। খ্যাতিমান কম্পিউটার বিজ্ঞানী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তাঁর ছোটভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্য লেখক।

বাবা ফয়জুর রহমানের ধারণা ছিল তাঁর প্রথম সন্তান হবে মেয়ে। তিনি মেয়ের নামও ঠিক করে রেখেছিলেন। তাঁর অনাগত কন্যা সন্তানটির জন্য তিনি একগাদা মেয়েদের ফ্রকও বানিয়ে রেখেছিলেন।

বানিয়ে রেখেছিলেন রূপার মল। মেয়ে মল পায়ে দিয়ে ঝুম ঝুম করে হাঁটবে- তিনি মুগ্ধ হয়ে দেখবেন। কিন্তু প্রথম সন্তান হলো ছেলে। তাতে কি? তাঁর এই পুত্র সন্তানটিকে তিনি দীর্ঘদিন মেয়েদের সাজে সাজিয়ে রেখেছিলেন। এমন কি তাঁর মাথার চুলও ছিল মেয়েদের মতো লম্বা। লম্বা চুলে মা বেণি করে দিতেন। বেণি করা চুলে রংবেরংয়ের ফিতা পরে হুমায়ূন আহমেদের শৈশবের শুরু।

হুমায়ূন আহমেদের শৈশবের প্রথম অধ্যায়টি যতটা স্নেহ ও মমতায় কেটেছে, দ্বিতীয় অধ্যায়টি কেটেছে ততটা বঞ্চনার ভেতর দিয়ে। শৈশবে তাঁর মা টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হন। জ্বর থেকে সুস্থ হওয়ার পর তাঁর স্মৃতিভ্রম দেখা দেয়। তিনি কাউকেই চিনতে পারছেন না, এমন কি তাঁর ছেলেকেও না। ফলে হুমায়ূন আহমেদকে পাঠিয়ে দেয়া হয় নানার বাড়ি মোহনগঞ্জে। সেখানে দুবছর তিনি নানা-নানির আদরে বেড়ে উঠেন।

দুবছর পর মা সুস্থ হয়ে ওঠেন। এরপর ১০ বছর বয়স পর্যন্ত হুমায়ূন আহমেদের শৈশব কেটেছে হেসেখেলে। বাবার চাকরি সূত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে তাঁর শৈশব কেটেছে।

সিলেট থেকে বাবা বদলী হন দিনাজপুরের জগদ্দলে। সেখানে জঙ্গলের ভেতর এক জমিদার বাড়িতে তাঁরা থাকতেন। জগদ্দলের দিনগুলি তাঁর কাছে ছিল হিরন্ময়। বাবার সাথে জঙ্গলে ভ্রমণ করতেন। গুলিভর্তি রাইফেল হাতে বাবা তাঁর ছেলেমেয়েদের নিয়ে জঙ্গলে ঢুকতেন। ঘন পাতার ফাঁক দিয়ে অল্প অল্প আলো আসত। থমথমে জঙ্গল। বিচিত্র সব পাখি ডাকত। বুনো ফুলের গন্ধ। পরিষ্কার বনে চলার পথ। বিচিত্র বন্য ফল। জঙ্গল পেরোলেই নদী। চকচকে বালির উপর দিয়ে স্বচ্ছ পানি বয়ে যেত। দুপুরে সেই নদীতে গোসল করতেন। একবারেই আলাদা এক জীবন।

জগদ্দল থেকে আবার বদলি পঞ্চগড়ে। সেখানে ভোরবেলা বাসার সামনে দাঁড়ালে কাঞ্চনজঙ্ঘার তুষার শুভ্র চূড়া চোখের সামনে ঝলমল করে উঠত। পঞ্চগড় থেকে এবার রাঙামাটি। পাহাড়ি উপত্যকায় আবার সেই উদ্দাম ঘুরে বেড়ানোর দিন। হুমায়ূন আহমেদের শৈশব কেটেছে এমনি স্বপ্নময়তার ভেতর দিয়ে।

শৈশবে হুমায়ূন আহমেদ যত জায়গায় গিয়েছেন তার মাঝে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ছিলো দিনাজপুরের জগদ্দল। তার প্রধান কারণ ছিল তাঁরা যেখানে থাকতেন তার আশেপাশে কোনো স্কুল ছিল না। স্কুলের কথা মনে হলেই হুমায়ূন আহমেদের মুখ এমন তেতো হয়ে যেত। বাবা মা তাঁকে স্কুলে পাঠাতেন বটে, তবে স্কুলে সময় কাটাতেন কেবল দুষ্টুমি করে। টেনেটুনে পাশ করতেন।

প্রাইমারি স্কুল পাশের পর এই হুমায়ূন বদলে যান। ষষ্ট শ্রেণীতে ওঠার পর থেকে স্কুলের প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে। আগ্রহটা এমনি ছিল যে এসএসসি পরীক্ষার ফল বের হওয়ার পর দেখা গেল, তিনি সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছেন। ১৯৬৫ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন। ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে তিনি এইচএসসি পাস করেন। এইচএসসি পরীক্ষাতেও তিনি মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে। ১৯৭২ সালে রসায়ন বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতকোত্তর পাশ করে তিনি একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে অধ্যাপক যোসেফ এডওয়ার্ড গ্লাসের তত্ত্বাবধানে পলিমার কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। লেখালেখি ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত সময় দেবার জন্য পরবর্তীতে অধ্যাপনা পেশা ছেড়ে দেন জনপ্রিয় শিক্ষক হুমায়ূন আহমেদ।

গত কয়েক দশক ধরেই বাংলাদেশের লেখালেখির ভুবনে হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাস দিয়ে সাহিত্যাঙ্গনে তাঁর আত্মপ্রকাশ। ‘নন্দিত নরকে’ যখন প্রকাশ হয় তখনই বোঝা গিয়েছিলো কথা সাহিত্যের কঠিন ভুবনে তিনি হারিয়ে যেতে আসেননি। তাঁর এই অমিত সম্ভাবনা তখনই টের পেয়ে প্রখ্যাত লেখক-সমালোচক আহমদ শরীফ এক গদ্যের মাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদকে অভিনন্দিত করেছিলেন। আহমদ শরীফের প্রশংসা যে অপাত্রে ছিল না তা তো আজ সর্বজন বিদিত।

মধ্যবিত্ত জীবনের কথকতা সহজ সরল গদ্যে তুলে ধরে তিনি তাঁর পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন। শুধু মধ্যবিত্ত জীবনের কথকতা বয়ানেই সীমিত নয় তাঁর কৃতিত্ব, বেশ কিছু সার্থক সায়েন্স ফিকশন-এর লেখকও তিনি। জনপ্রিয় চরিত্র মিসির আলী ও হিমুর স্রষ্টা তিনি।

হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যের ভিতটা গড়ে ওঠে পারিবারিক বলয় থেকেই। তাঁর বাবা ছিলেন সাহিত্যের অনুরাগী। বাসায় নিয়মিত সাহিত্য আসর বসাতেন। সেই আসরের নাম ছিলো সাহিত্য বাসর। গল্প লেখার অভ্যাসও ছিল তাঁর। যদিও সেসব গল্প কোথাও ছাপা হয়নি। তবে গ্রন্থাকারে তা প্রকাশিত হয়েছিল। সন্তানদের মধ্যে যাতে সাহিত্য বোধ জেগে ওঠে, সে চেষ্টা করেছেন তাঁর বাবা। মাঝে মাঝে তিনি নির্দিষ্ট একটা বিষয় দিয়ে ছেলেমেয়েদের কবিতা লিখতে বলতেন, ঘোষণা করতেন যার কবিতা সবচেয়ে ভাল হবে তাকে দেওয়া হবে পুরস্কার।
হুমায়ূন আহমেদের বড় মামা শেখ ফজলুল করিম যিনি তাঁদের সাথেই থাকতেন এবং যিনি ছিলেন তাঁদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী, তিনি কবিতা লিখতেন, লিখতেন নাটক এবং সেই নাটক তিনি তাঁর ভাগ্নে-ভাগ্নিদের দিয়ে বাসায় গোপনে গোপনে মঞ্চস্থও করাতেন। আর হুমায়ূন আহমেদের নিজের ছিল গল্প, উপন্যাসের প্রতি অসাধারণ টান।

হুমায়ূন আহমেদের পড়া প্রথম সাহিত্য ‘ক্ষীরের পুতুল’। যদিও তাঁর বাবার বিশাল লাইব্রেরি ছিলো। কিন্তু সমস্ত বই তিনি তালাবদ্ধ করে রাখতেন। তিনি হয়ত ভেবেছিলেন তাঁর সন্তানদের এসব বই পড়ার সময় এখনো হয়নি। কিন্তু ‘ক্ষীরের পুতুল’ পড়ার পর তিনি তাঁর বাবার বইয়ের আলমারী থেকে বই চুরি করে লুকিয়ে পড়তে শুরু করলেন এবং একদিন বাবার হাতে ধরা পড়ে গেলেন। বাবা তাঁকে নিয়ে গেলেন সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে। বইয়ের এক বিশাল সংগ্রহ সেখানে। যেদিকে চোখ যায় শুধু বই আর বই। বাবা তাঁকে লাইব্রেরির সদস্য করে দিলেন। সম্ভবত তিনিই ছিলেন এই লাইব্রেরির সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য। এভাবেই সাহিত্যের প্রতি হুমায়ূন আহমদের জন্ম নেয় গভীর ভালোবাসা।

যদিও হুমায়ূন আহমদের প্রথম রচনা ‘নন্দিত নরকে, তবে তারও বহু পূর্বে দিনাজপুরের জগদ্দলে থাকা অবস্থায় একটি কুকুরকে নিয়ে তিনি ‘বেঙ্গল টাইগার’ নামে একটি সাহিত্য রচনা করেছিলেন। ১৯৭২ সালে রচনা করেন ‘নন্দিত নরকে’। তারপর একে একে ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘রজনী’, ‘গৌরিপুর জংশন’, ‘অয়োময়ো’, ‘দূরে কোথাও’, ‘ফেরা’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আমার আছে জল’, ‘অচিনপুর’, ‘এইসব দিনরাত্রি’সহ দুই শতাধিক উপন্যাসের স্রষ্টা হূমায়ূন আহমেদ।

কেবল অধ্যাপনা আর কথাসাহিত্যই নয়, চলচ্চিত্র নির্মাণেও হূমায়ূন আহমেদ ছিলেন এক সুদক্ষ কারিগর। তাঁর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমনি’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে আটটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নিয়েছিল। তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আরেকটি চলচ্চিত্র ‘শ্যামল ছায়া’ বিদেশী ভাষার ছবি ক্যাটাগরিতে অস্কার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। তাঁর অন্য কীর্তি ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’ প্রভৃতি চলচ্চিত্র। এ চলচ্চিত্রগুলো কেবল প্রশংসাই কুড়ায়নি, মধ্যবিত্ত দর্শকদেরও হলমুখী করেছে।

টিভি নাট্যকার হিসেবেও হূমায়ূন আহমেদ ছিলেন সমান জনপ্রিয়। আশির দশকের মাঝামাঝি তাঁর প্রথম টিভি নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ তাঁকে এনে দিয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়তা। তাঁর হাসির নাটক ‘বহুব্রীহি’ এবং ঐতিহাসিক নাটক ‘অয়োময়’ বাংলা টিভি নাটকের ইতিহাসে অনন্য সংযোজন। নাগরিক ধারাবাহিক ‘কোথাও কেউ নেই’ এর চরিত্র বাকের ভাই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছিল টিভি দর্শকদের কাছে। নাটকের শেষে বাকের ভাইয়ের ফাঁসির রায় হলে ঢাকার রাজপথে বাকের ভাইয়ের মুক্তির দাবিতে মিছিল পর্যন্ত হয়েছিল। বাংলা নাটকের ইতিহাসে এমনটি আর কখনো হয়নি। এছাড়াও অসংখ্য বিটিভি ও প্যাকেজ নাটকের নির্মাতা তিনি। নাট্যকার- নির্দেশক দুই ভূমিকায়ই সমান সফল ছিলন হূমায়ূন আহমেদ। সফল শিল্পের আরেকটি শাখা চিত্রকলাতেও। তাঁর চিত্রশিল্পের স্বাক্ষর নিজ বাড়ির দেয়ালে টাঙানো রয়েছে।

১৯৭৩ সালে গুলতেকিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন হুমায়ূন আহমেদ । হুমায়ূন এবং গুলতেকিন দম্পতির চার ছেলে-মেয়ে। দীর্ঘ ৩২ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে ২০০৫ সালে ডিভোর্সের মাধ্যমে তাঁরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। এরপর তিনি অভিনেত্রী ও পরিচালক মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ে করেন। শাওন ১৯৯০ সাল থেকে টিভিতে অভিনয় শুরু করেন। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রের সঙ্গেও যুক্ত হন।
বালক হুমায়ূন আহমেদ ভালোবাসতেন গাছপালা শোভিত সবুজ অরণ্যানীর ভেতর ঘুরে বেড়াতে, বিটোফেনের সুরের মতন টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ শুনতে। এই বয়সে ও তাঁর সবুজের ভেতর হারিয়ে যেতে ইচ্ছে হত, ইচ্ছে হত বৃষ্টির শব্দের ভেতর নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে। ইট কাঠের খাঁচায় বন্দী এই রাজধানী ঢাকা তাঁর দম বন্ধ হয়ে আসত। তাই তিনি গাজীপুরের শালবনের ভেতর তৈরি করেছেন এক বিশাল নন্দন কানন ‘নুহাশ পল্লী’। তাঁর বেশির ভাগ সময়ই কাটত নুহাশ পল্লীর শাল গজারির সাথে কথা বলে, বৃষ্টির শব্দের সাথে মিতালি করে।
উপন্যাস: নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, মন্দ্রসপ্তক, দূরে কোথায়, সৌরভ, নী, ফেরা, কৃষ্ণপক্ষ, সাজঘর, বাসর, গৌরিপুর জংশন, নৃপতি, অমানুষ, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচীনি দ্বীপ, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমনি, শ্রাবণ মেঘের দিন, বৃষ্টি ও মেঘমালা, মেঘ বলেছে যাবো যাবো, জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।
চলচ্চিত্র: আগুনের পরশমনি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত।

পুরস্কার:
একুশে পদক (১৯৯৪), বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), মাইকেল মধুসূধন দত্ত পুরস্কার (১৯৮৭), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮)।

দেশের বাইরেও সম্মানিত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। জাপানের ‘NHK’ টেলিভিশন তাঁকে নিয়ে ‘Who is who in Asia’ শিরোনামে পনের মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করে।
তথ্যসূত্র: gunijan.org.bd

চট্টগ্রাম শিক্ষার্বোডে বেড়েছে পাশের হার: এগিয়ে ছাত্রীরা, শীর্ষে ফৌজদার হাট ক্যাডেট।

এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে নতুন রেকর্ড হয়েছে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে। একই সাথে পাসের হারও বেড়েছে এবার। ফলাফলে গ্রাম-শহরের ব্যবধানও কমেছে।(১৮জুলাই) বুধবার চট্টগ্রাম বোর্ডসহ সারাদেশের শিক্ষাবোর্ডগুলোর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল একযোগে প্রকাশিত হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার পাসের হার ৭২ দশমিক ২৯। গতবার পাসের হার ছিল ৭১ দশমিক ৫। এবার পাসের হার বেড়েছে ১ দশমিক ২৪ । ২০১০ সালে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৭১। এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১৪৫ জন। গতবার পেয়েছিল ১৮০২ জন। গতবারের তুলনায় এবার বেশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ১৩৪৩। ২০১০ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৬২৪ জন।গত তিন বছরের পাসের হার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে উত্থান-পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা খুবই সামান্য পরিমাণে।

প্রসঙ্গত: গত বছর ২৭ জুলাই প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৭৯৫ জন। পুন:নিরীক্ষণের ফলাফলে আবার ৭ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ আসায় সেগুলোও যোগ করে ১৮০২ হয়েছে। একইভাবে ২০১০ সালে প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ-৫ ছিল ১৬১৮ জন। কিন্তু পুন:নিরীক্ষণের পর ৬ জন বেড়ে তা দাঁড়ায় ১৬২৪ জনে।

পুন:নিরীক্ষণের কারণে গত দুইবারের পাসের হারের হিসেবেও কিছুটা তারতম্য হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বোর্ড থেকে গতকাল সরবরাহ করা গত দুইবারের ফলাফল সংক্রান্ত তথ্যকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বোর্ডে সেরা কলেজের তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। এরপর যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ। পাঁচটি মানদণ্ডে ৮৭ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সেরা হয়েছে। এ তালিকায় ৮৫ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ। ৮২ দশমিক ৪০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েছে সরকারি কমার্স কলেজ। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে অংশ নেয়া ৪১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জনই পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৮ জন শিক্ষার্থী। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে অংশ নেয়া ৭৫৭ জনের মধ্যে পাস করেছে ৭শ ৪৫ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪৫ জন। সরকারি কমার্স কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া মোট ৭৪৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ৭৪২ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩৩ জন।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, গতবারের মতো এবারও জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে ছেলেদের পেছনে ফেলেছে মেয়েরা। ২০১০ সালের ফলাফলেও ছেলেদের তুলনায় বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছিল মেয়েরা।

এবার ৩১৪৫ টি জিপিএ-৫ এর মধ্যে মেয়েরা দখল করেছে ১৫৮৭ টি এবং ছেলেরা দখল করেছে ১৫৫৮ টি। গতবার এক্ষেত্রে মেয়েদের সংখ্যা ছিল ৯২০ । আর ছেলেদের সংখ্যা ছিল ৮৮২ ।

এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০২৯ জন ছাত্র-ছাত্রী। মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯২ জন ছাত্র-ছাত্রী। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০২৪ ছাত্রছাত্রী।

এবারে পাস করেছে মোট ৩৯ হাজার ১১ জন ছাত্র-ছাত্রী। এরমধ্যে ছাত্র ১৯ হাজার ৯শ ১৭ জন। পাসের হার ৭১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ছাত্রী পাস করেছে ১৯ হাজার ৯৪ জন । পাসের হার ৭৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। এবারের ফলাফলে পাসের হারের দিক দিয়েও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। গতবার ছাত্রদের পাসের হার ছিল ৬৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০১০ সালের পাসের হারেও ছাত্রীরা ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে ছিল।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষার্থী ছিল মোট ৫৪ হাজার ৫শ ৪৯ জন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় শেষতক অংশ নেয় ৫৩ হাজার ৯শ ৬৮ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র হচ্ছে ২৭ হাজার ৯শ ১২ জন এবং ছাত্রী হচ্ছে ২৬ হাজার ৫৬ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০ হাজার ২শ ২৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭ হাজার ৮শ ৬৬ জন। বিজ্ঞানে পাসের হার ৭৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে ছাত্র পাস করেছে ৪ হাজার ৬শ ১৮ জন এবং ছাত্রী পাস করেছে ৩ হাজার ২শ ৪৮ জন। এক্ষেত্রে ছাত্রদের পাসের হার ৭২ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৮৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে গতবার পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৩ শতাংশ। গতবারের তুলনায় এ বিভাগে এবার পাসের হার বেড়েছে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ।

মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেয়া মোট ১৬ হাজার ৮শ ৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এবার পাস করেছে ১০ হাজার ১শ ৮৭ জন। এ শাখায় পাসের হার ৬০ দশমিক ৫১ শতাংশ। ছাত্র পাস করেছে ৩ হাজার ৭শ ৪৬ জন। ছাত্রী পাস করেছে ৬ হাজার ৪শ ৪১ জন। এ ক্ষেত্রে ছাত্রদের পাসের হার ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৬০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। মানবিক বিভাগে গতবার পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এবার সামান্য বেড়ে হয়েছে ৬০ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে পাসের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয়া মোট ২৬ হাজার ৯শ ৯জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট পাস করেছে ২০ হাজার ৯শ ৫৮ জন ছাত্র-ছাত্রী। এ বিভাগে পাসের হার হচ্ছে ৭৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ বিভাগে ছাত্র পাস করেছে ১১ হাজার ৫শ ৫৩ জন এবং ছাত্রী পাস করেছে ৯ হাজার ৪ শতাংশ ৫ জন। এক্ষেত্রে ছাত্রদের পাসের হার ৭৫ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৮১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এ বিভাগে গতবারের ফলাফলে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এবার তা সামান্য কমে হয়েছে ৭৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এক্ষেত্রে কমেছে শুন্য দশমিক ৮০ শতাংশ।

গতকাল বুধবার বেলা ১২ টায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. পীযূষ দত্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন।

ফলাফলের ব্যাপারে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, এবারের ফলাফল নিয়ে সার্বিকভাবে আমরা সন্তুষ্ট। কারণ এবারের ফলাফলে গ্রাম - শহরের ব্যবধান কমেছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে রেকর্ড হয়েছে। বেড়েছে পাসের হারও। সুতরাং ফলাফল নিয়ে আমাদের সন্তুষ্টির পরিধি বেড়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড থেকে সরবরাহ করা ফলাফলে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৬ হাজার ৩শ ২৯ ছাত্রের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১শ ১ জন। ৩ হাজার ৮শ ৯৫ জন ছাত্রীর মধ্যে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯শ ২৮ জন । জিপিএ-৪ থেকে ৫ পর্যন্ত পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে মোট ২ হাজার ৬শ ১ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র হচ্ছে ১ হাজার ৪শ ৪৯ জন এবং ছাত্রী হচ্ছে ১ হাজার ১শ ৫২ জন। জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ পর্যন্ত পেয়েছে ১ হাজার ৩শ ২০ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র সংখ্যা হচ্ছে ৭শ ৮৫ জন এবং ছাত্রী হচ্ছে ৫শ ৩৫ জন। জিপিএ- ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ পর্যন্ত পেয়েছে ১ হাজার ২৪ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র রযেছে ৬শ ৪৪ জন এবং ছাত্রী রয়েছে ৩শ ৮০ জন। জিপিএ-২ থেকে ৩ পর্যন্ত পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে ৮শ ৭০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৬শ ২২ জন এবং ছাত্রী ২শ ৪৮ জন। জিপিএ-১ থেকে ২ পর্যন্ত পেয়েছে মোট ২২ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র হচ্ছে ১৭ জন এবং ছাত্রী ৫ জন।

বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষনে দেখা গেছে, মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেয়া ৬ হাজার ২শ ৩০ জন ছাত্রের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯ জন এবং ১০ হাজার ৬শ ৫জন ছাত্রীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৩ জন। মানবিক বিভাগ থেকে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯২ জন। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৪ থেকে ৫ পযর্ন্ত পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে ১ হাজার ২শ ৯৩ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র হচ্ছে ৪শ ২৭ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৮শ ৬৬ জন।

জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ পর্যন্ত পেয়েছে মোট ১ হাজার ৫শ ৮৯ জন ছাত্র-ছাত্রী। এখানে ছাত্র ৫শ ৫৬ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ৩৩ জন। জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ পর্যন্ত পেয়েছে মোট ২ হাজার ১শ ৩২ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র হচ্ছে ৭শ ৫০ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ৩শ ৮২ জন। জিপিএ-২ থেকে ৩ পর্যন্ত পেয়েছে ৪ হাজার ৩৮ জন। এখানে ছাত্রদের সংখ্যা হচ্ছে ১ হাজার ৫শ ১৬ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ৫শ ২২ জন। জিপিএ-১ থেকে ২ পর্যন্ত পেয়েছে ১ হাজার ৪৩ জন। এখানে ছাত্র ৪শ ৫৮ এবং ছাত্রী ৫শ ৮৫ জন।

এদিকে এবারের ফলাফলে ব্যবসায় শাখা থেকে অংশ নেয়া ১৫ হাজার ৩শ ৫৩ জন ছাত্রের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪শ ১৮ জন এবং ১১ হাজার ৫শ ৫৬ জন ছাত্রীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬শ ৬ জন। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১ হাজার ২৪ জন। জিপিএ-৪ থেকে ৫ পর্যন্ত পেয়েছে মোট ৫ হাজার ৩০ জন। এখানে ছাত্র ২ হাজার ৩শ ৭৯ জন এবং ছাত্রী হচ্ছে ২ হাজার ৬শ ৫১ জন। জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ পর্যন্ত পেয়েছে মোট ৩ হাজার ৮শ ৬৯ জন। এখানে ছাত্র রয়েছে ২ হাজার ৬৩ জন এবং ছাত্রী রয়েছে ১ হাজার ৮শ ৬ জন। জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ পর্যন্ত পেয়েছে পেয়েছে মোট ৩ হাজার ৯শ ৭৪ জন পরীক্ষার্থী। এখানে ছাত্র রয়েছে ২ হাজার ২শ ৮৮ জন এবং ছাত্রী রয়েছে ১ হাজার ৬শ ৮৬ জন। জিপিএ-২ থেকে ৩ পর্যন্ত পেয়েছে মোট ৫ হাজার ৯শ ৭০ জন। এখানে ছাত্র ৩ হাজার ৬শ ৬৩ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ৩শ ৭ জন। এ বিভাগে জিপিএ-১ থেকে ২ পযর্ন্ত পেয়েছে ১ হাজার ৯১ জন। এখানে ছাত্র ৭শ ৪২ জন এবং ছাত্রী ৩শ ৪৯ জন।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ১শ ৯১ টি কলেজের উল্লেখিত সংখ্যক পরীক্ষার্থী ৮৮ টি কেন্দ্রে পরীক্ষার জন্য বসে। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে এবারের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৫শ ৮১ জন। ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে ২ জনের। বহিস্কৃত হয়েছে এবার ৬৬ জন। তাদের মধ্যে খাতা জালিয়াতির ঘটনায় গত সোমবার বিকেলে বহিস্কার করা হয়েছে ১৮ জনকে। ড. পীযূষ দত্ত জানান, ওই ১৮ পরীক্ষার্থী রাঙ্গামাটির নানিয়ার চর কলেজ কেন্দ্রের।

এদিকে পাসের হার শুন্য এ ধরনের কলেজের সংখ্যা এবার একটিও নেই। গতবারও ছিলনা। ফলাফলের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শেখর দস্তিদার বলেন, নকল প্রবণতাহীন এ সময়ে পড়ালেখার যে পরিবেশ গড়ে উঠেছে এবারের ফলাফল তারই প্রতিচ্ছবি। এদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, প্রকাশিত ফলাফলে কোন ভুলত্রুটি বা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হলে ফলাফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে তা লিখিতভাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে আবেদন করতে হবে। পরে আবেদনের কোন সুযোগ থাকবেনা।

আজ বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ২৬ জুলাই পযর্ন্ত সময়ের মধ্যে এসএমএস এর মাধ্যমে খাতা পুন:নিরীক্ষনের আবেদন করা যাবে বলে জানান ড. পীযূষ দত্ত।

মঙ্গলবার, জুলাই ১০, ২০১২

মিথ্যে বলছি না… – অনলাইনে ইনকাম সত্যিই সম্ভব !!!


“অনলাইনে ইনকাম” শব্দটা শুনলেই বেশীর ভাগ মানুষ এটাকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেয়। কেউ বিশ্বাসই করতে চায় না যে আসলেই সম্ভব। বন্ধুদের মাঝে যদি কেউ বলে আমি অনলাইনে কাজ করে সত্যি টাকা পেয়েছি তাবে অন্যরা মনে করে সে বানিয়ে বানিয়ে বলতেছে ভাব মারার জন্য। আবার অনেকে হাসাহাসি করে বলে “হাঁ হাঁ হাঁ দোস্ত জানিস ওনা ভার্চুয়াল জগতে ভার্চুয়াল ভাবে টাকার ইনকাম করেছে আচ্ছা তোকে টাকা গুলো কোন ফরমেটে দিলরে – .jgp ফরমেট নাকি .png ফরমেট হাঁ হাঁ হাঁ”
মানুষ যে কেন বেকার থাকে বুঝি না। কাজ জানলে “বেকার” শব্দটাই হাস্যকর মনে হয়। অনলাইন কাজ করতে কোন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয় না। শুধু মাত্র ইংরেজি পড়তে পারলে, বুঝতে পারলে আর কাজ জানলে যে কেউ ইনকাম করতে পারে। এখানে বয়সের কোন ভেদ নেই। কিশোর থেকে আঙ্কেল আন্টি বয়সেরও যে কেউ কাজ জানলেই করতে পারবে।

অনলাইনে কাজের মধ্যে রয়েছে – ওয়েব ডেভলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, ব্লগিং, এফিলিয়েশন, আর্টিকেল রাইটিং ইত্যাদি। এগুলো ছারাও আরও অনেক কাজ আছে যেগুলোর মাধ্যমে মানুষ সফলভাবে ইনকাম করতেছে।

বর্তমানে আমাদের দেশের বহু মানুষ আছে যারা এই অনলাইনের কাজ করে সফল ভাবে টাকা ইনকাম করতেছে। বিশেষ করে আমাদের যুব সমাজের অধিকাংশ ছেলেরা মেয়েরা বেশ সফলতা পেয়েছে এই কর্মে।

আসুন এমনই কিছু মানুষের সাথে পরিচয় হই যারা সফল ভাবে অনলাইনে কাজ করে টাকা ইনকাম করতেছে।

মাহাবুব রায়হান
কাজের বিভাগঃ এস.ই.ও (Search Engine Optimization)
আমি মূলত ২০০৯ এর শেষের দিকে অনলাইনে কাজের প্রতি আগ্রহি হই। ২০১০ এর মার্চ মাসে oDesk এ একাউন্ট করি। কিছু দিন ঘাটাঘাটি করার পর আমার প্রথম কাজ পাই ২০১০ সালের মে মাসের ৬-৭ তারিখে। তখন থেকে শুরু করে এখনও কাজ করছি। প্রায় দের বছরের বেশি সময় ধরে অনলাইনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছি।
সবসময় Independent থাকতে পছন্দ করতাম। তাই পছন্দটাকে ধরে রাখতে অনলাইনের কাজকে পেশা হিসাবে নিয়েছি। আমি কুষ্টিয়া এর মোট মফস্বল শহরে বড় হয়েছি। অনেক কষ্ট করে এই পেশাতে এই পর্যন্ত এসেছি। কুষ্টিয়াতে GP Internet দিয়ে কাজ করা লাগত এবং সেখানে যারা অনলাইনে কাজ করত তারা সাধারনত এই সব শেয়ার করতে চাইত না। তাই নিজেকেই কষ্ট করে শিখতে হয়েছে। Buyer রা কাজ দিত সেই কাজ করতে গিয়ে অনেক ঘাটা ঘাটি করতে করতে শিখেছি কাজ গুলো। তাই যারা অনলাইনে কাজ করতে চান তাদের অনুরোধ করবো আপনি যেই বিভাগে কাজ করতে চান সেই বিভাগে ভাল ভাবে কাজ শিখে কাজ করতে আসুন তাহলে আর কাজ পেতে বেশি সময় ও কষ্ট হবে না।
নাহিদা জাহান
কাজের বিভাগঃএস.ই.ও, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
আমি আমাদের লোকাল মার্কেটের কাজ গুলো বেশি করি। প্রথমে SEO র কাজ দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে সম্পূর্ণ Web Development এর কাজ করি।
আমি আগে থেকেই IT Sector এ জরিত তাই আমার কাজ পেতে তেমন একটা সমস্যা হয় নি। ২০০৯ সাল থেকে আমি Online Market Place গুলোতে কাজ করে আসছি।
প্রায় ৩ বছর ধরে কাজ করছি। এখন লোকাল ও ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট মিলে কাজ করি। অনেক সময় দেখা যায় আমার কাজ খুঁজতে হয় না Buyer রা আমাকে খুঁজে।
আমি বরাবরই অনেক একজন মানুষ এবং চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। যেহেতু এর কাজের ক্ষেত্রটি আমাদের দেশে একবারেই নতুন তাই এই ক্ষেত্রে আমি আগের থেকেই এই এ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছি যা অন্য সকল চাকরির বাজার থেকে একটু আলাদা এবং বৈচিত্র্যময়। আমি এই সেক্টরে সফলতার সাথে অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমার মত আরও অনেক মেয়েরা এগিয়ে আসবে এই সেক্টরে।













বুধবার, জুলাই ০৪, ২০১২

চট্টগ্রামের বন্দুক গুলিসহ তিন জনকে আটক করেছে র‌্যাব।

চট্টগ্রাম ৪ জুলাই: চট্টগ্রামের বন্দুক গুলিসহ তিন জনকে আটক করেছে র‌্যাব। আজ বুধবার ভোরে জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব খিলমুঘল গ্রাম থেকে এদের আটক আটক করা হয়। আটককৃতরা হচ্ছেন নূরুন্নবী (৪০), জসীম উদ্দিন (২৬) এবং মাহমুদুল করিম (২৬)।
উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যেরয়েছে- পাকিস্তানের তৈরি একটি দো নলা বন্দুক ও ৪ রাউন্ড গুলি।
র‌্যাব-৭ চট্টগ্রাম জোনের উপ-অধিনায়ক লে. কমান্ডার নূরুজ্জামান জানান পূর্ব শত্র“তার জের ধরে আলী আকবর নামে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁসাতে গিয়ে এ তিনজন আটক হয়েছেন।
র‌্যাব সূত্রে জানায় কয়েকদিন আগে অজ্ঞাত সোর্সের মাধ্যমে র‌্যাব কার্যালয়ে খবর আসে মঙ্গলবার গভীর রাতে রাঙ্গুনিয়ার হোসনাবাদ ইউনিয়নের আলী আকবর নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে কিছু অস্ত্র বেচাকেনা হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে রাত দেড়টার দিকে র‌্যাবের একটি দল ঘটনাস্থলে যান এবং আলী আকবরের বাড়ি অদুরে আড়ালে ওঁৎ পেতে থাকে।
ভোর ৪টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা দেখতে পান, চারজন লোক একটি ব্যাগ আকবর আলীর বাড়ির পাশে রেখে চলে যাচ্ছে। তাৎণিকভাবে র‌্যাব সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। এসময় আব্দুল খালেক নামে একজন পালিয়ে যেতে সম হলেও তিনজন ধরা পড়ে । পরে ওই ব্যাগটি উদ্ধার করা হলে সেখানে অস্ত্র ও গুলি পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় আলী আকবরকে ফাঁসানোর জন্য অস্ত্রভর্তি ব্যাগটি সেখানে রেখেছিল।এ ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে র‌্যাব কর্মকর্তা নূরুজ্জামান।

হিজাব পরিধানে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে নার্সিং ছাত্রীদের মানবন্ধন।



হিজাব পরিধানে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ ও নামাজ ঘর চালু রাখার দাবিতে চট্টগ্রাম সরকারী নার্সিং কলেজের ছাত্রীরা মানববন্ধন করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্রী তাদের বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে অংশ নেয়।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে ক্ষুদ্ধ ছাত্রীরা বলেন, ছাত্রীদের হিজাব পরতে বাধা দেয়া কোন সভ্য সমাজে হতে পারেনা। জোরপুর্বক যেমন হিজাব পরানো অন্যায়, সেভাবে কাউকে হিজাব পরতে বাধা দেওয়া আরো বড় অন্যায়।
এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আকস্মিক পরিদর্শনে আসা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান ডঃ মিজানুর রহমান এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং ছাত্রীদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছাত্রীরা কান্না জড়িত কণ্ঠে মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানকে তাদের দাবি দাওয়ার কথা জানান। কমিশন চেয়ারম্যান ছাত্রীদের কাস ও ওয়ার্ডে হিজাব পরিধানে বাধা এবং নামাজ ঘর বন্ধের কথা শুনে হতবাক হয়ে যান। এসময় তিনি এ ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপরে আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঢাকায় গিয়ে বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপরে নজরে আনবেন বলে জানান।মানববন্ধন শেষে ছাত্রীরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ফসিউর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ সময় তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে ছাত্রীদের আশ্বস্ত করেন।

রবিবার, জুলাই ০১, ২০১২

প্রধানমন্ত্রীও পদ্মা সেতুর দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতঃখালেদা জিয়া



বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীও পদ্মা সেতুর দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক টাকা দেয়নি। বর্তমান সরকারের দুর্নীতির কারণেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করা গেলো না।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় বেগম খালেদা জিয়া নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় স্বাধীনতা কমপ্লেক্স, চান্দগাঁও ও আশপাশের এলাকায় বন্যায় তিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। এখানে বিএনপি নেতা এম মোরশেদ খানের প থেকে ৫০০ পরিবারকে প্রাণসামগ্রী দেয়া হয়।
পদ্মা সেতু দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের স্বার্থে দুর্নীতিবাজদের নাম প্রকাশ করা উচিত। দুর্নীতি থেকে পালানোর কোনো সুযোগ নেই। পদ্মা সেতুর দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিরা যতই মতাবান হোক না কেন তাদের নাম ও পরিচয় জনগণকে জানাতে হবে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে সরকার সহযোগিতা করেনি অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ২৯০ কোটি ডলারের প্রকল্পটিতে বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলার অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, দুই দফা তদন্তের মাধ্যমে ব্যাংক পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকদের জানিয়েছিল। তারা এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতেও সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।
বেগম খালেদা জিয়া পদ্মা সেতুসহ সর্বক্ষেত্রে সর্বগ্রাসী দুর্নীতির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করে বলেন, পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংক আর টাকা দিবে না বলে জানিয়েছে। তারা টাকা না দিলে আমাদের এই উন্নয়নশীল দেশে এই সেতু তৈরী করা অসম্ভব।
তিনি বলেন, মতায় গেলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয়প্রীতিসহ সরকারের সব ধরনের অন্যায় উৎখাত করা হবে। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে।